বয়স কেবলই একটি সংখ্যা—ফুটবল মাঠে এই কথার সত্যতা আবারও প্রমাণ করলেন জাপানি কিংবদন্তি কাজুয়োশি মিউরা। ৫৯ বছর বয়সে এসেও অফিশিয়াল গোল করার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক নজির গড়লেন এই তারকা স্ট্রাইকার। প্রায় ১,৩৫১ দিন পর প্রথম কোনো অফিশিয়াল ম্যাচে গোল পেলেন তিনি।
জাপানে ফুকুশিমা প্রিফেকচার ফাইনাল ম্যাচে ‘ইওয়াকি ফুরুকাওয়া’কে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই মৌসুমের এম্পেররস কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মিউরার দল ‘ফুকুশিমা ইউনাইটেড’।
ম্যাচ চলাকালীন মিউরার বয়স ছিল ৫৯ বছর ১৯৪ দিন। এর আগে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ‘জাপান ফুটবল লিগ’-এ সুজুকা ক্লাবের হয়ে খেলার সময় তিনি ক্যারিয়ারের সর্বশেষ গোলটি করেছিলেন।
ফুকুশিমা ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম ৫০ মিনিটের বেশি সময় মাঠে থাকলেন ৫৯ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড, যাকে দলটির অধিনায়কের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের মাথায় আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন তার দল ইতোমধ্যে ৪-০ গোলে এগিয়ে ছিল।
দলের ২৩ বছর বয়সি তরুণ উইঙ্গার তাকাতোরা এইনাগার এক দুর্দান্ত সোলো ড্রিবলিং দিয়ে আক্রমণের সূচনা হয়। ডান দিক থেকে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পেনাল্টি বক্সে একটি নিচু কাট-ব্যাক বাড়ান এইনাগা। অভিজ্ঞতার ষোলকলা পূর্ণ করে কাজু দারুণ টাইমিংয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এবং প্রথম ছোঁয়াতেই ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ফুকুশিমা ইউনাইটেডের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল।
গোলটি হতেই এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয় মাঠে। তরুণ সতীর্থ এইনাগাকে জড়িয়ে ধরে আকাশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ট্রেডমার্ক হাসিতে মেতে ওঠেন মিউরা। সতীর্থরাও ছুটে এসে তাকে অভিনন্দন জানান। যদিও এটি ছিল ফুকুশিমার ম্যাচের পঞ্চম গোল, তবুও দিনশেষে পুরো ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে ‘কিং কাজু’র এই ঐতিহাসিক গোলটি।
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সক্রিয় পেশাদার ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃত মিউরা ১৯৮৬ সালে তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। গত পাঁচ দশক ধরে তিনি বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় নিরবচ্ছিন্নভাবে খেলে যাচ্ছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তার ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করবেন।
কাজুর এই রেকর্ড গড়া গোলের পর ফুকুশিমা আগামী ১৯ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এম্পেররস কাপের মূল পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। আর এর মাধ্যমে এই জাপানি আইকন আবারও প্রমান করলেন, সবুজ মাঠে ইতিহাস গড়ার ক্ষুধা তার বয়সের কাছে বিন্দুমাত্র হার মানেনি।


